July 2, 2026, 3:31 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামে গম পাওয়া গেলেও সরকার আবারও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দামে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুর থেকেও ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করা হবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর এ সিদ্ধান্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—যখন বিশ্ববাজারে বিকল্প উৎস রয়েছে, তখন কেন বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের গম কিনতে হচ্ছে?
সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই আমদানি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিক একটি ধারাবাহিক চুক্তির অংশ। এ ব্যবস্থায় এর আগেও চারটি চালানে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি গম দেশে এসেছে। চলতি বছরও একই চুক্তির আওতায় একাধিক চালানে গম সংগ্রহ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, জি-টু-জি ব্যবস্থায় গম কেনার ক্ষেত্রে কেবল বর্তমান বাজারদরই একমাত্র বিবেচ্য নয়। দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করা, নির্ভরযোগ্য উৎস ধরে রাখা, নির্ধারিত মানের গম পাওয়া এবং খাদ্যশস্যের কৌশলগত মজুত বজায় রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো সময় দাম কম থাকলেও পূর্বনির্ধারিত চুক্তির আওতায় কেনা গমের মূল্য তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে না। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমেও নিয়মিত গম সংগ্রহ করা হচ্ছে। রাশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, আর্জেন্টিনা ও কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাজারদর, গমের মান, পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় আমদানি করা হয়। অর্থাৎ সরকারের গম সংগ্রহে একাধিক উৎস সক্রিয় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান জি-টু-জি চুক্তি সমান্তরালভাবে চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক খাদ্যবাজারে যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কিংবা সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতার কারণে হঠাৎ সংকট তৈরি হতে পারে। সে কারণে অনেক দেশই একাধিক সরবরাহকারী দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখে, যাতে কোনো একটি উৎসে সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর থাকে।
তবে এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম কেনার মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি, চুক্তির শর্ত এবং বাজারদরের সঙ্গে পার্থক্যের কারণ আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন জনমনে থাকা প্রশ্নের জবাব মিলবে, অন্যদিকে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে, সরকার বলছে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম কেনা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি দামে এই ক্রয় ভবিষ্যতেও জনআলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে, যদি না এর অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।